Articles

অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি অতীব জরুরী

শরীফুজ্জামান আগাখান

কাজের সঙ্গে মজুরির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কোন ব্যক্তি কাজ করলে মজুরি পাবেন এটাই বিধেয়। স্বল্প সময়ের কাজের বিনিময় তাৎক্ষণিকভাবে এবং দিনমজুরের কাজের মূল্য দিনান্তে পরিশোধ করা হয়। কেউ কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করলে মাস শেষে বেতন পান। শিক্ষানবিসীকাল কিংবা মাস্টার রোলের সময় এর কিছুটা ব্যত্যয় হতে পারে। এ সময়কাল বড়জোর কয়েক মাস। এরপর যথারীতি বেতন চালু হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানেও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে কাজের সাথে মজুরীর সম্পর্কের নিশ্চয়তার বিধান রাখা হয়েছে। সংবিধানের সেই ১৫(খ) ধারাটি হলÑ কর্মের অধিকার অর্থাৎ কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিবেচনা করিয়া যুক্তিসংগত মজুরীর বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার অধিকার।
primary education
অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি অতীব জরুরী

লক্ষাধিক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি বছরের পর বছর চাকরি করছেন অথচ কোন বেতন পান না। কবে বেতন হবে সেই আশায় দিন গুণে চলেছেন। এভাবে একটা যুগই পার হয়ে গেছে। তারপরও বেতনের কোন খবর নেই। আরও কত বছর পেরোলে বেতন হবে তাও অজানা। সে এক অনিশ্চিত দুঃসহ জীবন। রোজগেরে কোন ব্যক্তির কাছে ব্যাপারটি বিস্ময়কর মনে হবে। বাস্তবে এমনটিই ঘটে চলেছে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে।

আমাদের দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার (নি¤œ মাধ্যমিক-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, কারিগরি ও মাদরাসা) ৯৮ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনা নির্ভর। মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে ৮ হাজারের অধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় আছে। যা এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক-চতুর্থাংশ। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ২০ লক্ষের অধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত। পরিতাপের বিষয়, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর বিনা বেতনে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এমতাবস্থায় তাঁরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কোন না কোন পেশায় নিয়োজিত হতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষাদান কঠিন হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা না হলে একে একে এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। তেমনটি ঘটলে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই নিয়ম নীতিতে পরিচালিত হয়। একই কারিকুলাম, সিলেবাস ও প্রশ্নপদ্ধতি অনুসরণ করে। শিক্ষার্থীরা বোর্ড থেকে একই মানের সার্টিফিকেট অর্জন করে। যে কারণে স্বীকৃতির সময় থেকে তাদের বেতন পাওয়ার কথা। অথচ নির্মম পরিহাস হল, এ সব চাকুরেদের কোন বেতন নেই। কবে যে বেতন হবে তাও অজানা। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত তাদের তাড়িয়ে নিয়ে ফিরছে। দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে ২১ লাখ চাকুরিজীবীর বেতন বাড়ছে। প্রতি গ্রেডে বেতন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। সেই সাথে যোগ হচ্ছে বৈশাখী ভাতা। বেতন বৃদ্ধির এই প্রেক্ষাপট স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দুঃখ-বঞ্চনা বাড়বে।

মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে নানাবিধ শর্ত পূরণ করতে হয়। এর ভেতর প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ নিজস্ব জমির ব্যবস্থা, চারিদিকে নির্দিষ্ট দূরত্ব অবধি সমজাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি না থাকা, সন্নিহিত এলাকার জনসংখ্যার হিসাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ব্যাংকে সংরক্ষিত তহবিলের হিসাব খুলে সেখানে বড় অংকের টাকা গচ্ছিত রাখতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণের পর শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভর্তি করানোর পর প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার  শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দফতরে পরিদর্শনের আবেদন করা হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে পরিদর্শক নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। অধিকাংশ শর্ত পূরণ হলে পাঠদানের অনুমতি মিলে। সাধারণত এই অনুমতিকাল তিন বছর। অনুমতি পত্রে শর্ত পূরণের তাগিদ থাকে। যেমনÑ কোন শিক্ষকের বিএড না থাকলে সেক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে বলা হয়। পাঠদানের অনুমতিকালে সরকারী বেতন-ভাতা না চাওয়ার অঙ্গীকার করা লাগে। প্রাথমিক অনুমতিকাল সফলভাবে অতিবাহিত হলে আবারও পরিদর্শনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি মিলে। আর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে সেটাই রীতি। নতুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদানকালে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রাথমিক অনুমোদনকালের তিনটি বছর বেতন-ভাতা না পাওয়ার মানসিকতা নিয়ে চাকরিতে যোগ দেন। আর আশায় থাকেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পেলে এমপিও মিলবে। তখন পেশাগত জীবনের অশ্চিয়তা দূর হবে। চলতি সংকটের আগে স্বীকৃতির সময় থেকে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও হয়ে এসেছে। আর যদিবা স্বীকৃতির কয়েক মাস পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে সেক্ষেত্রে এরিয়াসহ বেতন পাওয়া গেছে।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর পার করলেও বিগত এক দশকের অধিককাল যাবৎ আর এমপিওভুক্ত হচ্ছে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এ সব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে ঘোরতর সংশয় দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে যেন কোন মাথাব্যথা  নেই। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের ক্ষমতার শেষ মেয়াদে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তি আশা করেছিল; কিন্তু সেটা ঘটে নি। এর পর দুই বছর মেয়াদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। হরেক তালের এ সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে ফুসরত পায় নি। বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রতিবছর এমপিও দেয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে সংকীর্ণ কোটারি দৃষ্টিকোণ থেকে মাত্র একবার এক হাজার ৬২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে। এর পর আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি খাতে বাজেট রাখা হয় নি। 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভ্ুিক্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক রুটিন ওয়ার্ক হওয়ার কথা। সংসদ সদস্যগণও নিয়মিত সংসদ অধিবেশনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তাগিদ দেন। গত বছর  প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বৈঠকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। অথচ অর্থ না থাকার কথিত অজুহাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শিক্ষা খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ না রাখলে অর্থ সংকট দেখা দিবে এটাই স্বাভাবিক। বিগত বছরগুলোতে আমরা শিক্ষা খাতে ক্রমহ্রাসমান বরাদ্দ দেখতে পাই। ২০০৯-১০ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল বাজেটের ১৪.৬৭ শতাংশ, সেখান থেকে পরের বছর কমে হল ১৩.৬১ শতাংশ, তারপর ক্রমান্বয়ে ১৩.১৩, ১২.৩২, ১১.৫১, ১১.০৭ এবং সর্বশেষ এ বছর তা কমে দাঁড়ায় ১০.৭ শতাংশে। এটা স্পষ্ট, অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনায় শিক্ষায় বিনিয়োগ ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে।

অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার শিক্ষক-কর্মচারী অগত্যা অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমেছেন। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে ২০১২ সালে ছয় মাস ধরে চলা আন্দোলনের সময় শিক্ষা মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের পাঁচবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠকে এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষা সচিবের সুখবর জানানোর কথা ছিল। কিন্তু তিনি কোন কিছু করতে না পারায় শিক্ষক-কর্মচারীরা আবারও ঐ বছর পহেলা অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলনে নামেন। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে এটাই নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল দাবি। এ দাবির পরিপূরক হিসেবে অবিলম্বে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ইনডেক্স  নম্বর প্রদান, স্বীকৃতির সময় থেকে চাকরির বয়স গণনা, এমপিও প্রদানে যাবতীয় অনিয়ম, পক্ষপাত-ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন স্থগিত রাখা; এই চারটি দাবি এসেছে। সর্বশেষ ঐ আন্দোলনের চতুর্থ দিনে পুলিশ শিক্ষক-কর্মচারীদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী আহত হন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুই-এক দিনের ভেতর বৈঠকের প্রস্তাব এলে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হলে এমপিওভুক্তির সুরাহা হবে। দুঃখের বিষয়, এরপর আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয় নি। শিক্ষামন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে বৈঠককালে শিক্ষা খাতে ঘাটতি বাজেটের কথা বলে আমাদের এমপিওভুক্তির অধিকার পাস কাটানোর প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা এমপিওভুক্তি খাতে বাজেট বরাদ্দ কম হলে কম বেতন নেয়ারও প্রস্তাব করেন। এমনটিও জানানো হয়, এ বছর ৫০% বেতন দিন। পরবর্তী বছর বেতন ১০০% এ উন্নীত করুন। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছার অভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কোন প্রক্রিয়া চালু হয় নি। যার ফলে দীর্ঘ দুই বছর পর আবার নতুন করে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি আদায়ের লক্ষে অনশনে নেমেছেন।

উদ্বেগের বিষয় হল, অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ করতে  জনসংখ্যার নিরিখে বাড়তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করা কিংবা স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে এমন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ টানা হয়। প্রকান্তরে তাদের ধারণা, এমপিওপ্রত্যাশী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝিবা নি¤œমানের। এক্ষেত্রে বলা দরকার, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদ থাকে ২-৩ বছর। এরপর প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মান মূল্যায়ন করে তবেই আবার স্বীকৃতি নবায়ন করা হয়। এখন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল যদি একাদিক্রমে খুবই খারাপ হতে থাকে কিংবা শিক্ষকের সংখ্যা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছাপিয়ে যায়। তবে ওই ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি আটকে দেবার ভিতর দিয়েই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। কোন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার মতো বাস্তবতা না থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পার্শ্ববর্তী বড় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে/প্রতিষ্ঠানসমূহে অঙ্গীভূত করলে তাতে কেউ আপত্তি করবে না। বিনা বেতনে অতিকষ্টে বছরের পর বছর সফলতার সঙ্গে হাল ধরে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষার মান যে আরো বাড়বে সে কথা না বললেও চলে।
এ সরকারের নির্বাচনী একটি প্রতিশ্রুতি ছিল, প্রতিটি পরিবারে অন্তত  একজন সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করবে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিত শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজ যোগ্যতাবলে একভাবে কর্মসৃজন করে নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা নানা ধরনের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। এখন সরকারের কর্তব্য হবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে সত্যিকার চাকরি কার্যকর করা।
বিষ্ময়ের ব্যাপার হল, এমপিওভুক্তি খাতে অর্থের অভাবের কথা বলা হলেও শিক্ষার নানান ক্ষেত্রে বড় ধরনের বরাদ্দ থেমে নেই। সরকার ২৬ হাজার রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ করেছে। ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা যথেষ্ট না হলেও বাড়ানো হয়েছে। ¯œাতক স্তর পর্যন্ত উপবৃত্তি এবং অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। অথচ যারা বিনা বেতনে এক যুগের অধিককাল চাকরি করছেন, তাদের ব্যাপারে সরকারের কোন ভাবনা নেই। একদিকে বিনা বেতন, অন্যদিকে অসম্মানের দুঃসহ এক জীবন। পরিবারে করুণার পাত্র, সমাজে উপেক্ষিত, জীবন চলার পথে পদে পদে বিড়ম্বিত শিক্ষকদের দেখে তাঁদের সন্তানেরা আর যাই হোক জীবনে শিক্ষক হতে চাইবে না। অনেক শিক্ষক-কর্মচারী ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে দ্বিধাদ্বন্দের এই অনিশ্চিত জীবন ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে চাইছেন। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে ম্যানেজিং কমিটি এবং অভিভাবকদের আঁকড়ে ধরে রাখার কারণে বের হয়েও আসতে পারছেন না। স্থানীয় জনগণও অচিরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবে এই সান্তনা দিয়ে থাকেন।

২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রাণলয় থেকে এক পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়-উল্লেখিত তারিখের পর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান /নতুন শ্রেণি শাখা/ বিভাগ শক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা খোলার অনুমতি/ পাঠদানের অনুমতি/ একাডেমিক স্বীকৃতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কোন দিন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দাবি করতে পারবে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে মর্মে- প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক ১৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিটপূর্বক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মুচলেকা জমা দিয়ে শ্রেণি শাখা/ বিভাগ খোলা/স্থাপনের অনুমতি/পাঠদানের অনুমতি/একাডেমিক স্বীকৃতি গ্রহণ করতে হবে। এই পরিপত্র জারি প্রকারান্তরে উল্লেখিত তারিখের পূর্বের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির দাবি প্রতিষ্ঠিত করে।
মাধ্যমিক স্তরের মুমূর্ষুপ্রায় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্বরক্ষা এবং অধিকারবঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন-জীবিকা নিশ্চিতকরণ ও বিশ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত কাম্য।

No comments:

Post a Comment